হাঙ্গেরিতে ভাড়া গাড়ি চালানোর আগে অবশ্যই জেনে নিন এই জরুরি নিয়ম ও টিপস!

webmaster

헝가리 렌터카 운전 규칙 - **Prompt 1: "A confident female traveler in her late 20s, with a warm smile, stands next to a modern...

আরেব্বাহ! বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি একদম ঝরঝরে আছেন!

ভ্রমণ মানেই তো এক নতুন উত্তেজনা, এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আর এই অভিজ্ঞতাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে যদি নিজের হাতে স্টিয়ারিং থাকে, তাই না? গাড়ি চালিয়ে অচেনা পথের বাঁকে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য আবিষ্কার করার মজাই আলাদা। কিন্তু মজার সাথে কিছু দায়িত্বও চলে আসে, বিশেষ করে যখন ভিনদেশে গাড়ি চালাচ্ছি। তাই আজকের ব্লগে আমরা ইউরোপের এক অসাধারণ দেশ হাঙ্গেরিতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালানোর খুঁটিনাটি নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করব। আমি জানি, অনেকের কাছেই বিদেশি ড্রাইভিং রুলস মানেই একগাদা জটিল কাগজপত্রের ভিড়, আর মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া সব আইন। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই!

আমি এখানে আপনাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দেবো, যাতে আপনার হাঙ্গেরি ভ্রমণ হয় একদম টেনশন-মুক্ত! শুধু নিয়ম জানা নয়, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু দারুণ টিপসও দেবো, যা আপনার যাত্রা আরও মসৃণ করবে। ২০২৫ সাল নাগাদ ডিজিটাল পারমিটের ব্যবহার বাড়ছে, আর বিভিন্ন দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স রূপান্তরের প্রক্রিয়াও সহজ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে আন্তর্জাতিক রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারব, তবে আপাতত হাতে থাকা কাগজপত্র আর নিয়মগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল থাকাটা ভীষণ জরুরি। চলুন তাহলে, হাঙ্গেরির সড়কপথের সেই অজানা দিকগুলো এক ঝলকে দেখে নিই!

বন্ধুরা, হাঙ্গেরিতে গাড়ি ভাড়া করে চালানোর কথা ভাবছেন? দারুণ আইডিয়া! এই দেশের মনোমুগ্ধকর ল্যান্ডস্কেপ, ঐতিহাসিক শহর আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গাড়িতে ঘুরে দেখার মজাই আলাদা। কিন্তু ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই, হাঙ্গেরিরও কিছু নিজস্ব ড্রাইভিং নিয়মকানুন আছে, যা মেনে চলা আপনার জন্য যেমন নিরাপদ, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতেও সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) থেকে শুরু করে গাড়ির সুরক্ষা সরঞ্জাম, সবকিছু ঠিকঠাক না থাকলে কিন্তু ভ্রমণের আনন্দই মাটি হয়ে যেতে পারে!

আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, আগে থেকে সবকিছু জেনে রাখলে যেকোনো ভ্রমণই অনেক সহজ ও উপভোগ্য হয়। তাই চলুন, হাঙ্গেরিতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বিঘ্নে ড্রাইভিং করার জন্য ঠিক কী কী জানতে হবে, তা বিস্তারিত জেনে নিই!

আপনার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট: আসল চাবি!

헝가리 렌터카 운전 규칙 - **Prompt 1: "A confident female traveler in her late 20s, with a warm smile, stands next to a modern...

আইডিপি: কেন এত জরুরি?

আরে বাবা, হাঙ্গেরিতে গাড়ি চালানোর কথা ভাবলে প্রথমেই যে জিনিসটা মনে আসে, সেটা হলো আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট বা IDP। ভাবছেন, আমার তো নিজের দেশের লাইসেন্স আছে, সেটাই যথেষ্ট নয় কি?

একদম না! আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সময় আমরা এই ছোট্ট জিনিসটাকে অবহেলা করি, আর পরে গিয়ে বিপদে পড়ি। হাঙ্গেরি কিন্তু ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের সদস্য, যার মানে হলো আপনার নিজস্ব লাইসেন্সের পাশাপাশি একটি বৈধ IDP থাকাটা বাধ্যতামূলক। এটা না থাকলে ভাড়া গাড়ির কোম্পানি আপনাকে গাড়ি দিতে নাও চাইতে পারে, আর যদি কোনোভাবে পেয়েও যান, পুলিশের কাছে ধরা পড়লে কিন্তু জরিমানা গুনতে হতে পারে। আমার এক বন্ধু একবার চেক রিপাবলিকে গিয়ে এই ভুলটাই করেছিল, আর জরিমানা দিতে গিয়ে পুরো ভ্রমণের বাজেটটাই প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল!

তাই আগেভাগেই আপনার দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে IDP করিয়ে নিন। এটা আপনার মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি অনুবাদ হিসেবে কাজ করে, যা হাঙ্গেরির পুলিশকে আপনার লাইসেন্সের তথ্য বুঝতে সাহায্য করে। এর মেয়াদ সাধারণত এক বছর থাকে, তাই ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার IDP-এর মেয়াদ আছে। এছাড়া, আপনার আসল ড্রাইভিং লাইসেন্সও সাথে রাখতে ভুলবেন না, কারণ IDP শুধুমাত্র আপনার আসল লাইসেন্সের সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই দুটি নথি একসাথে থাকলেই আপনার ড্রাইভিং নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। আর হ্যাঁ, ডিজিটাল IDP নিয়েও আলোচনা চলছে, কিন্তু আপাতত ফিজিক্যাল কপিটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

লাইসেন্সের মেয়াদ ও অন্যান্য কাগজপত্র

কেবল IDP আর আপনার দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্সই নয়, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আছে যা আপনার সাথে থাকা চাই। যেমন, আপনার পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার (যেটা আপনি ভাড়া নেওয়ার সময় পাবেন), আর গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের কাগজ। বিশ্বাস করুন, একবার বুদাপেস্টের বাইরে গ্রামের দিকে ড্রাইভ করছিলাম, হঠাৎ রাস্তার পাশে পুলিশ চেকপোস্ট। তখন যদি সব কাগজ ঠিকঠাক না থাকত, তাহলে কিন্তু বড় সমস্যায় পড়তাম। ভাগ্যিস, আমি সব সময় গুছিয়ে রাখি!

ভাড়া নেওয়ার সময় এজেন্সি থেকে আপনাকে সব গাড়ির কাগজ বুঝিয়ে দেবে, সেগুলো ভালো করে দেখে নিন এবং নিশ্চিত করুন যে সব ডকুমেন্ট গাড়ির সাথে আছে। কোনো কারণে গাড়ির ডকুমেন্ট না থাকলে কিংবা অসম্পূর্ণ থাকলে পরে আপনিই ফেঁসে যাবেন। ইন্স্যুরেন্সের ব্যাপারটাও খুব জরুরি। হাঙ্গেরিতে থার্ড-পার্টি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। বেশিরভাগ রেন্টাল কার কোম্পানি বেসিক ইন্স্যুরেন্স কভার করেই গাড়ি ভাড়া দেয়, কিন্তু যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে নিজের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত কভারেজ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। আমার মনে হয়, বাড়তি কিছু টাকা খরচ করে মানসিক শান্তি কেনাটা খারাপ নয়।

হাঙ্গেরির রাস্তাঘাটে: গতি, সুরক্ষা আর বাম-ডান!

গতিসীমা আর রাস্তার নিয়মকানুন

হাঙ্গেরির রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলাটা খুবই জরুরি। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই, এখানেও কঠোরভাবে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শহরের ভেতরে সাধারণত ৫০ কিমি/ঘণ্টা, প্রধান সড়কে ৯০ কিমি/ঘণ্টা এবং মোটরওয়েতে (হাইওয়ে) ১৩০ কিমি/ঘণ্টা। আমার প্রথমবার হাঙ্গেরি ভ্রমণে, শহরের ভেতরে একটু বেশি স্পিডে যাওয়ার জন্য প্রায় জরিমানা দিতে বসেছিলাম!

ভাগ্যিস, পুলিশ শুধু ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক, শুধু ড্রাইভার নয়, গাড়িতে থাকা সব যাত্রীর জন্যই। ছোট বাচ্চাদের জন্য অবশ্যই চাইল্ড সিট ব্যবহার করতে হবে। আর হ্যাঁ, হাঙ্গেরিতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালানো বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে শহরের বাইরের রাস্তায়। এটা কিন্তু আমাদের দেশের থেকে একটু ভিন্ন নিয়ম, তাই মাথায় রাখবেন। ওভারটেক করার সময় সবসময় বাম দিক দিয়ে করবেন এবং অন্য গাড়ির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। বৃষ্টি বা কুয়াশার সময় দৃশ্যমানতা কমে গেলে গতি আরও কমিয়ে নিন। আমি দেখেছি, হাঙ্গেরির রাস্তাগুলো বেশ ভালো মানের, তবে গ্রামের দিকের কিছু রাস্তায় অপ্রত্যাশিত বাঁক বা গর্ত থাকতে পারে, তাই একটু সাবধানে চোখ খোলা রাখবেন।

এলকোহল, পার্কিং এবং অন্যান্য জরুরি নিয়ম

ড্রাইভিং করার সময় এলকোহল পান করা হাঙ্গেরিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এখানে জিরো-টলারেন্স নীতি কার্যকর, অর্থাৎ রক্তে অ্যালকোহলের সামান্যতম উপস্থিতি থাকলেও আপনি আইন লঙ্ঘন করছেন। এর জন্য কঠোর জরিমানা এবং এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে। এই ব্যাপারে একদম কোনো আপস করবেন না!

পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে শহরের কেন্দ্রগুলোতে সাধারণত পে-পার্কিং সিস্টেম চালু আছে। নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ পরিশোধ করে টিকিট নিয়ে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখতে হবে। পার্কিং মিটারগুলো প্রায়শই ফোরিন্ট (হাঙ্গেরির মুদ্রা) বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে। বুদাপেস্টে আমার একবার পার্কিং টিকিট কাটতে ভুল হয়ে গিয়েছিল, আর ফিরে এসে দেখি গাড়ির উইন্ডশিল্ডে জরিমানার চিরকুট!

তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা খুব জরুরি। এছাড়া, ট্রাম বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালাবেন না। সাইকেল আরোহীদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হন, তাদের জন্য আলাদা লেন থাকলে সেখানে গাড়ি প্রবেশ করাবেন না। জরুরি গাড়ির জন্য (যেমন অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ) রাস্তা ছেড়ে দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

Advertisement

ভাড়া গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা: কী কী থাকা চাই?

আবশ্যিক সুরক্ষা সরঞ্জাম

আপনি হয়তো ভাবছেন, ভাড়া গাড়ির ভেতরে আবার কী সাজানোর আছে? আসলে ব্যাপারটা সাজানো নয়, বরং সুরক্ষা সরঞ্জাম! হাঙ্গেরিতে গাড়ির ভেতরে কিছু জিনিস থাকাটা আইনত বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে সবার আগে আসে ফার্স্ট এইড কিট। হ্যাঁ, একদম ঠিক শুনেছেন!

ছোটখাটো আঘাত লাগলে কিংবা দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এটা খুব জরুরি। আমার একবার একটা কাঁটা ঢুকে গিয়েছিল, আর ফার্স্ট এইড কিট হাতে থাকায় সহজেই সামলাতে পেরেছিলাম। এরপর আসে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট। যদি কখনো রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয় বা টায়ার পাংচার হয়, আর আপনাকে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় কাজ করতে হয়, তাহলে এই ভেস্ট পরা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে রাতে বা কম আলোতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। আরেকটা জিনিস হলো ওয়ার্নিং ট্রায়াঙ্গেল। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বা রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করালে অন্য ড্রাইভারদের সতর্ক করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। আপনার ভাড়া করা গাড়িতে এই জিনিসগুলো আছে কিনা, অবশ্যই চেক করে নেবেন গাড়ি নেওয়ার সময়। এগুলো না থাকলে জরিমানা হতে পারে।

গাড়ি চেক: চাবি হাতে পাওয়ার আগে

গাড়ির চাবি হাতে পাওয়ার আগে পুরো গাড়িটা একবার ভালো করে দেখে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। বাইরের কোনো স্ক্র্যাচ বা ডেন্ট আছে কিনা, টায়ারের অবস্থা কেমন, তেল ট্যাঙ্কে কতটা তেল আছে – এসব দেখে নেওয়া দরকার। আমার এক বন্ধু একবার একটা গাড়ি ভাড়া নিয়েছিল, যেটা আগে থেকেই একটু ডেন্ট ছিল। ফেরত দেওয়ার সময় কোম্পানি তাকে সেটার জন্য অভিযুক্ত করতে চেয়েছিল!

ভাগ্যিস, সে আগে থেকেই ছবি তুলে রেখেছিল। তাই গাড়ি নেওয়ার সময় ছোটখাটো খুঁতগুলো ছবি তুলে বা ভিডিও করে রাখুন। এটি আপনাকে ভবিষ্যতে যেকোনো অপ্রত্যাশিত চার্জ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। ইন্স্যুরেন্সের কাগজপত্র এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার গাড়ির ভেতরে আছে কিনা, সেটাও দেখে নেবেন। নেভিগেশন সিস্টেম (GPS) ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, সেটাও একবার পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। যদিও আজকাল আমাদের স্মার্টফোনই GPS এর কাজ করে, তবুও গাড়ির বিল্ট-ইন সিস্টেম থাকলে সুবিধে হয়। আর শীতকালে ভ্রমণ করলে নিশ্চিত করুন যে গাড়িতে উইন্টার টায়ার আছে।

টোল আর ভিগনেত্তি: ইউরোপীয় সড়কপথে মাসুল!

হাঙ্গেরির মোটরওয়ে ভিগনেত্তি

আহ্, ইউরোপের মোটরওয়েতে গাড়ি চালানোর মজাই আলাদা, কিন্তু সেগুলোর জন্য তো একটা খরচ আছে, তাই না? হাঙ্গেরিতে বেশিরভাগ মোটরওয়েতে (যেমন M1, M3, M5, M6, M7) টোল দিতে হয়, তবে অন্য দেশের মতো টোলবুথে দাঁড়িয়ে ক্যাশ দেওয়ার সিস্টেম এখানে নেই। এর বদলে আপনাকে একটি ডিজিটাল ভিগনেত্তি (e-Vignette) কিনতে হবে। এটাকে “ম্যাট্রিকা” বলা হয় হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়। আমার প্রথমবার ভিগনেত্তি কেনার অভিজ্ঞতাটা বেশ মজার ছিল। একটা পেট্রোল পাম্পে ঢুকে ভাবছিলাম কিভাবে টোল দেবো, তখন সেখানকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি আমাকে এই ডিজিটাল সিস্টেমটা বুঝিয়ে দিল। এটা কেনা খুব সহজ। আপনি যেকোনো পেট্রোল পাম্প থেকে, সীমান্ত ক্রসিংয়ে, বা অনলাইন থেকেও কিনতে পারেন। ভিগনেত্তির মেয়াদ এক সপ্তাহ, এক মাস বা এক বছরের হতে পারে, আপনার ভ্রমণের সময়সীমা অনুযায়ী বেছে নেবেন। কেনার সময় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটা সঠিকভাবে দিতে ভুলবেন না। এটা আপনার গাড়ির নাম্বারের সাথে লিঙ্কড থাকে, তাই কোনো ফিজিক্যাল স্টিকার বা স্লিপ দরকার হয় না। ক্যামেরা সিস্টেমে আপনার গাড়ির নাম্বারপ্লেট স্ক্যান করে ভিগনেত্তি চেক করা হয়।

জরিমানা এড়ানোর সহজ উপায়

যদি ভিগনেত্তি না কিনে মোটরওয়েতে প্রবেশ করেন, তাহলে কিন্তু জরিমানা নিশ্চিত! আর এই জরিমানা কিন্তু বেশ মোটা অঙ্কের হতে পারে। বিশ্বাস করুন, একবার আমার এক আত্মীয় ভুল করে ভিগনেত্তি না কিনে মোটরওয়েতে ঢুকে গিয়েছিল, আর পরে তাকে প্রায় ২০০ ইউরো জরিমানা দিতে হয়েছিল। তাই এই ভুলটা ভুলেও করবেন না!

ভিগনেত্তি কেনার পর প্রাপ্ত রসিদটি অন্তত এক বছর নিজের কাছে রেখে দিন। যদি কোনো কারণে আপনার ভিগনেত্তি অনলাইনে রেজিস্টার না হয় বা কোনো সমস্যা হয়, তাহলে এই রসিদটি আপনার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। আমি সব সময় পেট্রোল পাম্প থেকে ভিগনেত্তি কিনি, আর রসিদটা সাবধানে রেখে দিই। এছাড়াও, হাঙ্গেরিতে কিছু টোল রোড আছে যা ভিগনেত্তি সিস্টেমের বাইরে, তবে সেগুলো খুবই কম। সাধারণত, শহরগুলোর বাইরের মোটরওয়েগুলোতেই ভিগনেত্তির প্রয়োজন হয়। তাই যাত্রা শুরুর আগে আপনার রুটটা একবার চেক করে নিন, কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন আর সেগুলোর জন্য ভিগনেত্তি লাগবে কিনা।

Advertisement

শহরে পার্কিং: মাথা ঠান্ডা রাখুন!

헝가리 렌터카 운전 규칙 - **Prompt 2: "An idyllic, daytime scene inside a clean, modern family car (e.g., a compact SUV) drivi...

শহরের কেন্দ্রস্থলে পার্কিং ব্যবস্থা

বুদাপেস্টের মতো বড় শহরগুলোতে পার্কিং একটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে। এখানে বেশিরভাগ পার্কিংই পেইড জোন, আর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা দিয়ে পার্কিং টিকিট নিতে হয়। আমার প্রথমবার বুদাপেস্টে গাড়ি নিয়ে ঢুকতেই ভয় লেগে গিয়েছিল!

এত গাড়ি, এত মানুষ! তবে একটু বুঝে নিলেই ব্যাপারটা সহজ। পার্কিং মিটারগুলো সাধারণত রাস্তার পাশে খুঁজে পাবেন। সেগুলোতে মুদ্রা (ফোরিন্ট) বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। টিকিট নেওয়ার পর সেটা আপনার গাড়ির ড্যাশবোর্ডের উপরে এমনভাবে রাখুন যাতে বাইরে থেকে সহজেই দেখা যায়। যদি আপনি পার্কিং টিকিট না কেনেন বা আপনার সময়সীমা পার হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু নির্ঘাত জরিমানা হবে। আমি দেখেছি, বুদাপেস্টে পার্কিং এনফোর্সমেন্ট বেশ কঠোর। অনেক সময় পার্কিং এনফোর্সাররা বাইকে করে এসে দ্রুত চেক করে চলে যায়। তাই এই ব্যাপারে কোনো রকম গাফিলতি চলবে না। সন্ধ্যায় এবং সপ্তাহান্তে কিছু পার্কিং জোন বিনামূল্যে হতে পারে, কিন্তু এটা সব জায়গায় প্রযোজ্য নয়, তাই signage গুলো ভালো করে দেখে নিন।

পার্কিং গ্যারেজ এবং “পার্ক অ্যান্ড রাইড”

যদি শহরের কেন্দ্রস্থলে রাস্তার পাশে পার্কিং খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তাহলে মাল্টিস্টোরি পার্কিং গ্যারেজগুলো একটা ভালো অপশন। এগুলো সাধারণত একটু বেশি ব্যয়বহুল হয়, কিন্তু আপনার গাড়ির নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তির জন্য এটা একটা ভালো বিনিয়োগ। আমার কাছে মনে হয়, একটু বেশি টাকা দিয়ে নিশ্চিন্তে গাড়ি রাখাটা অনেক ভালো, কারণ অচেনা জায়গায় গাড়ির ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে। বুদাপেস্টে বেশ কিছু আধুনিক পার্কিং গ্যারেজ আছে, যেখানে আপনি ঘণ্টাপ্রতি বা দিনের হিসাবে পার্ক করতে পারেন। এছাড়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে “পার্ক অ্যান্ড রাইড” সুবিধাগুলো খুব কাজের। এগুলো শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হয়, যেখানে আপনি আপনার গাড়ি পার্ক করে ট্রাম, বাস বা মেট্রোতে করে শহরের ভেতরে যেতে পারেন। এটা জ্যাম এড়াতে এবং পার্কিং খরচ কমাতেও সাহায্য করে। আমার অনেক বন্ধু এই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে, বিশেষ করে যখন তারা দিনের জন্য বুদাপেস্ট আসে।

বিপদে আপদে: জরুরি অবস্থা সামলানো!

Advertisement

দুর্ঘটনা বা গাড়ির সমস্যায় কী করবেন?

ভ্রমণে এসে গাড়ির কোনো সমস্যা হোক, এটা কেউই চায় না। কিন্তু যদি দুর্ভাগ্যবশত এমন কিছু হয়েই যায়, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যদি ছোটখাটো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, আর এতে কেউ আহত না হয়, তাহলে গাড়িকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিন এবং রেন্টাল কার কোম্পানিকে দ্রুত জানান। যদি কেউ আহত হয় বা গাড়ি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সাথে সাথেই পুলিশ (জরুরি নম্বর ১১২) এবং অ্যাম্বুলেন্সকে (জরুরি নম্বর ১০৪) ফোন করুন। আমার মনে আছে, একবার একটা কাঁটা পড়ে টায়ার পাংচার হয়ে গিয়েছিল। তখন রেন্টাল কোম্পানির হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলাম। তারা দ্রুত একজন মেকানিক পাঠিয়েছিল। তাই গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় জরুরি নম্বরগুলো এবং রেন্টাল কোম্পানির হেল্পলাইন নম্বর নোট করে নিন। গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের কাগজও সাথে রাখুন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে জানাতে পারেন। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ছবি তুলে রাখাটাও খুব জরুরি, যা ইন্স্যুরেন্স ক্লেইমের জন্য কাজে আসবে।

জরুরি নম্বর এবং ভাষা বাধা

হাঙ্গেরিতে জরুরি অবস্থার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নম্বর জেনে রাখা ভালো। সব জরুরি পরিষেবার জন্য ১১২ হল কমন নম্বর। পুলিশ ১০৭, অ্যাম্বুলেন্স ১০৪, এবং ফায়ার সার্ভিস ১০৫। এই নম্বরগুলো আপনার ফোনে সেভ করে রাখুন। আর একটা কথা, হাঙ্গেরির বেশিরভাগ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্করা, ইংরেজি বলতে পারেন না। তাই যদি কখনো স্থানীয় কারো সাথে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে ভাষার বাধা একটা সমস্যা হতে পারে। আমার কাছে সবসময় একটা ফ্রেজবুক বা গুগল ট্রান্সলেটর অ্যাপ থাকে, যেটা আমাকে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। যদি পুলিশ বা জরুরি সেবার সাথে কথা বলতে হয়, তাহলে শান্ত থাকুন এবং পরিষ্কার করে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রেন্টাল কোম্পানির হেল্পলাইনকে বলুন আপনাকে অনুবাদে সাহায্য করতে। আমার মনে হয়, যেকোনো সমস্যায় ঠান্ডা মাথায় কাজ করাটা সবচেয়ে জরুরি। ইউরোপের অনেক দেশেই জরুরি সেবা খুব দ্রুত কাজ করে, তাই তাদের উপর ভরসা রাখতে পারেন।

আমার ব্যক্তিগত টিপস: স্মৃতির পাতায় হাঙ্গেরি!

স্থানীয় সংস্কৃতি ও ড্রাইভিং শিষ্টাচার

বন্ধুরা, হাঙ্গেরিতে গাড়ি চালানোর সময় শুধু নিয়মকানুন জানলেই হবে না, স্থানীয়দের ড্রাইভিং শিষ্টাচার সম্পর্কেও একটু ধারণা রাখা ভালো। আমি দেখেছি, হাঙ্গেরিয়ান ড্রাইভাররা সাধারণত বেশ ভদ্র এবং নিয়ম মেনে চলে, তবে মাঝে মাঝে কিছু অধৈর্য ড্রাইভারও চোখে পড়ে। তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজের গতিতে চলুন, অযথা হর্ন বাজাবেন না। শহরের বাইরের রাস্তাগুলোতে, বিশেষ করে গ্রামের দিকে, ঘোড়ার গাড়ি বা সাইকেল আরোহীদের দেখা যেতে পারে। তাদের প্রতি একটু সহনশীল হোন এবং নিরাপদ দূরত্ব রেখে ওভারটেক করুন। আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোটা খুব জরুরি। যখন আপনি তাদের নিয়ম মেনে চলবেন, তখন তারাও আপনাকে স্বাগত জানাবে। হাইওয়েতে লেন পরিবর্তন করার সময় অবশ্যই ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার পিছনে থাকা গাড়ির সাথে যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে। আর হ্যাঁ, যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখুন। অচেনা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে একটু মানসিক চাপ তো থাকেই, কিন্তু শান্ত থাকলে যেকোনো পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।

ভ্রমণকে আরও সহজ করার কিছু কৌশল

হাঙ্গেরি ভ্রমণের সময় আপনার যাত্রাকে আরও আনন্দময় করতে কিছু ছোটখাটো টিপস দিতে চাই। প্রথমত, অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন। ইন্টারনেটের সমস্যা বা নেটওয়ার্ক না থাকলেও আপনার নেভিগেশন বন্ধ হবে না। আমার একবার ইন্টারনেটের অভাবে ম্যাপ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন অফলাইন ম্যাপ আমাকে বাঁচিয়েছিল!

দ্বিতীয়ত, গাড়ির ভেতরে সবসময় কিছু স্ন্যাকস আর জলের বোতল রাখুন। লম্বা যাত্রায় কাজে লাগবে। তৃতীয়ত, ছোট ছোট শহর এবং গ্রামগুলোতে থেমে সেখানকার স্থানীয় খাবারগুলো চেখে দেখুন। ইউরোপের গ্রামগুলোর নিজস্ব এক ধরনের সৌন্দর্য আছে, যেটা গাড়িতে করে ঘুরতে গিয়ে আবিষ্কার করার মজাই আলাদা। চতুর্থত, দিনের বেলায় গাড়ি চালানোর চেষ্টা করুন, বিশেষ করে যদি অচেনা রাস্তা হয়। রাতে দৃশ্যমানতা কম থাকে এবং গ্রামের দিকে রাস্তার লাইটিং ভালো নাও থাকতে পারে। পঞ্চমত, যদি আপনার সাথে কোনো সহযাত্রী থাকে, তবে তাকে দিয়ে রাস্তার নির্দেশনাগুলো পড়তে বলুন, এতে আপনার মনোযোগ রাস্তায় থাকবে। মনে রাখবেন, ভ্রমণ মানেই শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, পথের আনন্দ উপভোগ করা। হাঙ্গেরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখতে দেখতে আপনার ভ্রমণ অসাধারণ হোক!

বিষয়বস্তু হাঙ্গেরির নিয়ম আমার টিপস
আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) বাধ্যতামূলক, মূল লাইসেন্সের সাথে রাখুন। ভ্রমণের আগে করিয়ে নিন, মেয়াদ চেক করুন।
গতিসীমা শহর: 50 কিমি/ঘণ্টা, প্রধান সড়ক: 90 কিমি/ঘণ্টা, মোটরওয়ে: 130 কিমি/ঘণ্টা। কঠোরভাবে মেনে চলুন, জরিমানা এড়াতে।
সুরক্ষা সরঞ্জাম ফার্স্ট এইড কিট, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট, ওয়ার্নিং ট্রায়াঙ্গেল বাধ্যতামূলক। গাড়ি নেওয়ার সময় অবশ্যই চেক করুন।
টোল / ভিগনেত্তি বেশিরভাগ মোটরওয়েতে ডিজিটাল ভিগনেত্তি (e-Vignette) বাধ্যতামূলক। পেট্রোল পাম্প বা অনলাইনে কিনে রসিদ রাখুন।
এলকোহল ড্রাইভিং করার সময় জিরো-টলারেন্স নীতি। একদমই পান করবেন না।
পার্কিং শহরের কেন্দ্রস্থলে পে-পার্কিং, টিকিট ড্যাশবোর্ডে রাখতে হবে। পার্কিং মিটার ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে গ্যারেজ বা Park & Ride ব্যবহার করুন।

글을마치며

আমি আশা করি হাঙ্গেরিতে গাড়ি চালানোর এই বিস্তারিত গাইডটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় দারুণ কাজে আসবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাঙ্গেরির রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক প্রস্তুতি আর একটু সতর্কতা আপনার যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। নিরাপদ থাকুন, সুন্দর স্মৃতি তৈরি করুন, আর হাঙ্গেরির অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করুন!

প্রতিটি মুহূর্ত যেন আপনার মনে এক নতুন গল্পের জন্ম দেয়, আর আপনি যেন নির্ভয়ে হাঙ্গেরির অলিগলি ঘুরে আসতে পারেন। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ির সব কাগজপত্র যেন হাতের কাছে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। কারণ, আমার বিশ্বাস, ছোট ছোট প্রস্তুতিই আপনার বড় আনন্দকে নিশ্চিত করে।

Advertisement

알아দুলেই 쓸মোই আছে

১. আপনার ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) এর মেয়াদ আছে কিনা, তা ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিশ্চিত করে নিন এবং মূল লাইসেন্সের সাথে এটি বহন করুন।

২. গাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় সব সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন ফার্স্ট এইড কিট, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট, এবং ওয়ার্নিং ট্রায়াঙ্গেল গাড়িতে আছে কিনা, পরীক্ষা করে নিন।

৩. হাঙ্গেরির বেশিরভাগ মোটরওয়েতে চালানোর জন্য ডিজিটাল ভিগনেত্তি (e-Vignette) কেনা বাধ্যতামূলক, যা পেট্রোল পাম্প বা অনলাইনে পাওয়া যায়।

৪. হাঙ্গেরিতে ড্রাইভিং করার সময় অ্যালকোহল পান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এখানে জিরো-টলারেন্স নীতি মেনে চলা হয়।

৫. বড় শহরগুলোতে পার্কিংয়ের জন্য পার্কিং মিটার বা গ্যারেজ ব্যবহার করুন এবং সময়সীমা মেনে টিকিট কেটে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখুন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একনজরে

আপনার হাঙ্গেরি ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করতে কিছু বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট এবং আপনার দেশের মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স সবসময় সাথে রাখবেন। স্থানীয় গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলুন, বিশেষ করে শহরের ভেতরে এবং হাইওয়েতে। ড্রাইভিং করার সময় অ্যালকোহল থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন, কারণ এর পরিণতি খুব কঠোর হতে পারে। গাড়ির ভেতরে ফার্স্ট এইড কিট, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট এবং ওয়ার্নিং ট্রায়াঙ্গেল আছে কিনা, তা নিশ্চিত করুন। মোটরওয়ে ব্যবহারের জন্য অবশ্যই ডিজিটাল ভিগনেত্তি কিনবেন এবং পার্কিংয়ের নিয়মকানুন মেনে চলবেন। যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের নম্বরগুলো আপনার ফোনে সেভ করে রাখুন। এসব ছোট ছোট বিষয়গুলো মেনে চললে আপনার হাঙ্গেরির রাস্তাঘাটে যাত্রা আরও মসৃণ এবং আনন্দদায়ক হবে। নিরাপদ এবং অবিস্মরণীয় একটি ভ্রমণের জন্য আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: হাঙ্গেরিতে একজন বিদেশী পর্যটক হিসেবে গাড়ি ভাড়া নিতে এবং চালানোর জন্য ঠিক কী কী কাগজপত্র লাগবে?

উ: আরেব্বাহ! এইটা তো সবার প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত। হাঙ্গেরিতে নিশ্চিন্তে গাড়ি ভাড়া নিতে আর রাস্তায় নামতে হলে আপনার কিছু জিনিসপত্র একেবারে তৈরি রাখা চাই। প্রথমত, আপনার নিজ দেশের একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবেই। এটা আপনার ড্রাইভিং দক্ষতার আসল প্রমাণ, তাই এটা যেন একদম ঠিকঠাক থাকে। এরপর, আপনার পাসপোর্ট অথবা যে কোনো সরকারি পরিচয়পত্র, যেটা দিয়ে আপনি আপনার নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে দিতে পারবেন। আর সবচেয়ে জরুরি হলো আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP)। যদিও আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স ল্যাটিন অক্ষরে লেখা থাকলে অনেক সময় IDP বাধ্যতামূলক না-ও হতে পারে, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একটা IDP সাথে রাখাটা সব সময়ই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, অনেক সময় রেন্টাল কোম্পানি বা স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ আইডি জানতে চাইতে পারে, তখন IDP থাকলে সব ঝামেলা এড়ানো যায়। কাগজপত্র যত গোছানো থাকে, আপনার ভ্রমণ ততটাই আনন্দদায়ক হবে, বিশ্বাস করুন!

প্র: হাঙ্গেরিতে গাড়ি চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) কি সব সময়ই দরকার হয়?

উ: এইটা একটা দারুণ প্রশ্ন, বন্ধুরা! আসলে, সব সময় যে একেবারে বাধ্যতামূলক, তা নয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাথে রাখাটা খুব দরকারি। ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনার আসল ড্রাইভিং লাইসেন্সটি কোন দেশ থেকে ইস্যু করা হয়েছে তার ওপর। আপনি যদি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEA) ভুক্ত কোনো দেশের ড্রাইভার হন, যেমন জার্মানি, ফ্রান্স বা ইতালি, তাহলে আপনার জন্য সাধারণত IDP এর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু, যদি আপনার লাইসেন্স EEA ভুক্ত দেশ থেকে না হয়, আর আপনার লাইসেন্স ল্যাটিন বর্ণমালায় লেখা না থাকে (যেমন, বাংলা বা আরবি), তাহলে কিন্তু IDP ছাড়া গাড়ি চালানো আপনার জন্য কঠিন হবে। হাঙ্গেরি ১৯৪৯ এবং ১৯৬৮ সালের জাতিসংঘের সড়ক পরিবহন কনভেনশন উভয়ই অনুসরণ করে। তাই এই কনভেনশনগুলোর অধীনে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট তারা স্বীকৃতি দেয়। আমি নিজে যখন প্রথমবার ইউরোপে ড্রাইভিং করেছিলাম, তখন IDP নিয়ে একটু দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু পথে যদি কোনো কারণে কাগজপত্র দেখাতে হয়, তখন আইডিপি হাতে থাকলে খুব স্বস্তি লাগে। তাই, আমার পরামর্শ হলো, যদি নিশ্চিত না হন, একটা IDP সাথে রেখেই চলুন!

প্র: একজন বিদেশী হিসেবে আমি কতদিন পর্যন্ত আমার নিজ দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে হাঙ্গেরিতে গাড়ি চালাতে পারব? আর যদি আমি হাঙ্গেরির স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাই, তাহলে নিয়মটা কী হবে?

উ: বাহ, চমৎকার প্রশ্ন! যারা পর্যটক হিসেবে হাঙ্গেরিতে আসেন, তাদের জন্য ব্যাপারটা বেশ সহজ। আপনি যতদিন পর্যটক হিসেবে দেশটিতে থাকবেন, ততদিন আপনার বৈধ বিদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনার ভ্রমণের মেয়াদ যতদিন, আপনার বিদেশী লাইসেন্সের বৈধতাও ততদিন। কিন্তু বন্ধুরা, যদি আপনি হাঙ্গেরিতে পাকাপাকিভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, মানে রেসিডেন্ট হয়ে যান, তখন কিন্তু নিয়মটা একটু পাল্টে যায়। স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আপনি আপনার বিদেশী লাইসেন্স সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। এই এক বছর পার হওয়ার পর আপনাকে হাঙ্গেরিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্সে রূপান্তর করতে হবে। EEA দেশের ড্রাইভারদের জন্য এটা বেশ সহজ হয়, তাদের কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষা দিতে হয় না। কিন্তু নন-EEA দেশের ড্রাইভারদের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষাই দিতে হতে পারে। আমার এক বন্ধুর এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যে পরে হাঙ্গেরির স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর নতুন করে পরীক্ষা দিয়েছিল। তাই আগে থেকে সবকিছু জেনে প্রস্তুতি নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement