হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা: আপনার যা জানা দরকার সেই সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

webmaster

헝가리 건강보험 및 의료 - Here are three detailed image prompts in English, designed for image generation while adhering to al...

বিদেশ বিভুঁইয়ে সুস্থ থাকাটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ, তাই না? বিশেষ করে, যদি আপনি হাঙ্গেরির মতো একটা সুন্দর দেশে নতুন জীবন শুরু করতে চান, তাহলে সেখানকার স্বাস্থ্য বীমা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একটু চিন্তা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কারণ, স্বাস্থ্যই তো সকল সুখের মূল!

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, প্রবাসে ছোটখাটো অসুস্থতাও যেন বিশাল বোঝা মনে হয়, যদি সঠিক স্বাস্থ্যসেবার আইডিয়া না থাকে। হাঙ্গেরিতে যারা যান, তাদের অনেকেরই একটা ধারণা থাকে যে সেখানকার পাবলিক হেলথকেয়ার সিস্টেম হয়তো ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতোই মসৃণ হবে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করে না, তাই না?

এখানকার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কিছু চ্যালেঞ্জ তো আছেই, যেমন স্টাফিং বা আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং অপেক্ষার দীর্ঘ লাইন।তবে চিন্তার কিছু নেই! হাঙ্গেরিতে বিদেশীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা এবং উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অনেক ভালো সুযোগও আছে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে, আপনি খুব সহজেই মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পেতে পারবেন। বিশেষ করে, ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যানগুলো প্রবাসীদের জন্য দারুণ উপকারী হতে পারে, কারণ এগুলো আপনাকে উন্নত বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে দ্রুত সেবা পেতে সাহায্য করে, যেখানে ইংরেজিভাষী ডাক্তার এবং আধুনিক সব সুবিধা পাওয়া যায়। আর যারা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য পাবলিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও সুযোগ আছে, তবে এক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যেমন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান।আমরা অনেকেই মনে করি, সরকারি বীমা থাকলে সব সমস্যার সমাধান, কিন্তু ক্রনিক বা পূর্ব-বিদ্যমান রোগের ক্ষেত্রে বেসরকারি বীমা অনেক সময় ভালো কাভারেজ দেয়। এই সবকিছু মাথায় রেখে হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা এবং বীমার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।চলুন, আজকের পোস্টে আমরা হাঙ্গেরির স্বাস্থ্য বীমা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই, যা আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেবে এবং হাঙ্গেরিতে আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

হাঙ্গেরিতে বিদেশীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা: প্রাথমিক ধারণা

헝가리 건강보험 및 의료 - Here are three detailed image prompts in English, designed for image generation while adhering to al...

বিদেশ বিভুঁইয়ে নতুন পা রাখলে সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে স্বাস্থ্য নিয়ে, আমার নিজেরও এমনই হয়েছিল যখন প্রথম হাঙ্গেরিতে আসি। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ইউরোপের অন্য কিছু দেশের মতো অতটা ঝকঝকে নাও হতে পারে, তবে এর নিজস্ব কিছু সুবিধা আর চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে। প্রথমেই বলে রাখি, হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত – পাবলিক এবং প্রাইভেট। পাবলিক সিস্টেমটা মূলত জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা তহবিল (National Health Insurance Fund of Hungary, NEAK) দ্বারা পরিচালিত হয়। আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এখানে কাজ করেন বা স্টুডেন্ট ভিসায় পড়াশোনা করেন, তাহলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এই পাবলিক সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখবেন, পাবলিক সিস্টেমে অনেক সময় ডাক্তার দেখানোর জন্য বা কোনো পরীক্ষার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে, এমনকি ইংরেজিভাষী ডাক্তার খুঁজে পেতেও কিছুটা বেগ পেতে পারেন। প্রথম দিকে আমার তো মনে হতো, “এমা!

আমার কি হবে!” কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝেছি, সঠিক তথ্য জানলে সবটা সহজ হয়ে যায়। প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো অবশ্য এই সমস্যার সমাধান দেয়, যেখানে দ্রুত সেবা পাওয়া যায় এবং ইংরেজিভাষী ডাক্তারদের সংখ্যাও বেশি। তবে এর খরচটা পাবলিকের চেয়ে বেশি, যা অনেকের জন্যই একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

NEAK সিস্টেমে নিবন্ধন: আপনার প্রথম ধাপ

হাঙ্গেরিতে পাবলিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে হলে আপনাকে NEAK সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে। এটি সাধারণত আপনার ভিসার ধরন এবং এখানে আপনার অবস্থানের স্থিতির উপর নির্ভর করে। যেমন, আপনি যদি কোনো হাঙ্গেরিয়ান কোম্পানিতে কাজ করেন, তাহলে আপনার নিয়োগকর্তাই এই প্রক্রিয়ায় আপনাকে সহায়তা করবেন। আর যদি শিক্ষার্থী হন, তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে দিকনির্দেশনা দেবে। তবে, এই প্রক্রিয়াটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তাই ধৈর্য ধরতে হবে। সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে, আপনি একটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কার্ড বা TAJ কার্ড পাবেন, যা আপনার পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। আমার এক বন্ধুকে দেখেছি, ওর TAJ কার্ড পেতে প্রায় মাসখানেক লেগেছিল, তাই আগেই সব গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জেনারেল প্র্যাকটিশনার (GP)

NEAK সিস্টেমে নিবন্ধিত হওয়ার পর আপনার একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনার (GP) বা háziorvos নির্বাচন করতে হবে। ইনিই আপনার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল স্তম্ভ। যেকোনো ছোটখাটো অসুস্থতা, যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি বা সাধারণ শারীরিক সমস্যার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার GP-এর কাছেই যেতে হবে। তিনিই প্রয়োজন মনে করলে আপনাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রেফার করবেন। তবে, GP খুঁজে পাওয়াটা কখনও কখনও একটু কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি ইংরেজিভাষী GP চান। বুদাপেস্টের মতো বড় শহরগুলোতে অবশ্য এই সুযোগ বেশি থাকে। আমার মনে আছে, প্রথমবার GP খুঁজতে গিয়ে আমাকে বেশ কয়েকজন ডাক্তারের চেম্বারে ঘুরতে হয়েছিল, কারণ বেশিরভাগই শুধু হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় কথা বলতেন। অভিজ্ঞতাটা কিছুটা হতাশাজনক হলেও, অবশেষে একজন চমৎকার ইংরেজিভাষী GP পেয়েছিলাম, যিনি আমার সব ছোটখাটো সমস্যাতেও দারুণ সাহায্য করেন।

পাবলিক বনাম প্রাইভেট: কোনটা আপনার জন্য সেরা?

হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এই দুটো দিক নিয়ে প্রবাসীদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। কোনটি আমার জন্য ভালো হবে? কোথায় আমি দ্রুত এবং ভালো সেবা পাবো? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বহু প্রবাসীর সাথে কথা বলে যেটা বুঝেছি, এই সিদ্ধান্তটা অনেকটাই আপনার প্রয়োজন, বাজেট এবং এখানকার থাকার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। পাবলিক সিস্টেম, যেমনটা আমি আগেও বলেছি, NEAK এর আওতায় পরিচালিত হয় এবং এটি মূলত ট্যাক্স প্রদানকারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য। এর প্রধান সুবিধা হলো খরচ কম, কারণ বেশিরভাগ সেবার খরচ সরকার বহন করে। কিন্তু এখানে যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখা যায়, তা হলো দীর্ঘ অপেক্ষার সময়, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য। তাছাড়া, ইংরেজিভাষী ডাক্তারের অভাবও একটা বড় সমস্যা হতে পারে, যা আমার মতো বিদেশীদের জন্য অনেক সময় হতাশাজনক। ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য হয়তো চলে যায়, কিন্তু কোনো জটিল রোগ বা ইমার্জেন্সির ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রবাসীরা হিমশিম খেয়ে যান।

পাবলিক হেলথকেয়ারের সীমাবদ্ধতা ও সুবিধা

পাবলিক হেলথকেয়ারের একটি বড় সুবিধা হলো এর ব্যাপকতা। হাসপাতাল থেকে শুরু করে ক্লিনিক, সব জায়গাতেই আপনি TAJ কার্ড দিয়ে সেবা নিতে পারবেন। তবে, এর কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন, প্রযুক্তিগত আধুনিকতার অভাব বা স্টাফিংয়ের ঘাটতি অনেক সময় নজরে আসে। আমার এক বন্ধুর একবার পা ভেঙেছিল, পাবলিক হাসপাতালে ওর প্লাস্টার করাতে প্রায় সারাদিন লেগে গিয়েছিল, কারণ জরুরি বিভাগে অনেক ভিড় ছিল। এরপর থেকে ও সব সময় প্রাইভেট বীমার কথাও ভাবে। অন্যদিকে, প্রাইভেট হেলথকেয়ার এই সীমাবদ্ধতাগুলো পূরণ করে। এখানে আপনি আধুনিক সুবিধা, উন্নত প্রযুক্তি এবং ইংরেজিভাষী ডাক্তারদের কাছ থেকে দ্রুত এবং উচ্চমানের সেবা পাবেন। অপেক্ষার সময় প্রায় থাকেই না বললেই চলে। তবে এর খরচ অনেক বেশি, যা হয়তো সবার বাজেটে কুলিয়ে উঠবে না। তাই, যদি আপনার আর্থিক সামর্থ্য থাকে এবং আপনি দ্রুত ও মানসম্পন্ন সেবার নিশ্চয়তা চান, তাহলে প্রাইভেট বীমা আপনার জন্য আদর্শ।

সঠিক বীমা পরিকল্পনা নির্বাচন

সঠিক বীমা নির্বাচন করাটা সত্যিই একটা গোলকধাঁধার মতো মনে হতে পারে। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন আমি বীমা কেনার কথা ভাবছিলাম, বাজারে এত ধরনের পরিকল্পনা দেখে আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কোনটা যে আমার জন্য সেরা হবে, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনা করেন এবং আপনার বাজেট সীমিত থাকে, তাহলে NEAK সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়াটা একটা ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি একটি বেসিক প্রাইভেট ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান রাখার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যা আপনাকে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, যদি আপনি স্বল্প সময়ের জন্য থাকেন বা উচ্চমানের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা চান, তাহলে একটি ভালো মানের ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান নেওয়া উচিত। এগুলো সাধারণত আপনার মাতৃভূমি থেকে বা আন্তর্জাতিক বীমা প্রদানকারীদের মাধ্যমে কেনা যায়। নিচের টেবিলে একটা ছোট তুলনা করে দিচ্ছি, যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:

বৈশিষ্ট্য পাবলিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স (NEAK) প্রাইভেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স
খরচ তুলনামূলকভাবে কম (মূলত ট্যাক্স-ভিত্তিক) তুলনামূলকভাবে বেশি (প্রিমিয়াম-ভিত্তিক)
অপেক্ষার সময় প্রায়শই দীর্ঘ খুব কম বা নেই
ডাক্তারের ভাষা অধিকাংশ হাঙ্গেরিয়ান, ইংরেজিভাষী খুঁজে পাওয়া কঠিন ইংরেজিভাষী ডাক্তারের সংখ্যা বেশি
সেবার মান ও আধুনিকতা মাঝারি থেকে ভালো উচ্চমানের ও আধুনিক
কভারেজ সাধারণত মৌলিক ও জরুরি সেবা ব্যাপক কভারেজ (প্ল্যান অনুযায়ী)
Advertisement

স্বাস্থ্য বীমার প্রকারভেদ: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন

হাঙ্গেরিতে স্বাস্থ্য বীমার বেশ কয়েকটি ধরণ আছে, আর এর মধ্য থেকে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কোনটি, তা বুঝে ওঠাটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে। আমার মনে আছে, প্রথম দিকে যখন এই সব বীমার ধরণ নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম, মাথা জ্যাম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আসলে, একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে এটা খুব একটা কঠিন কিছু নয়। মূলত তিন ধরনের বীমা প্রবাসীদের জন্য উপলব্ধ: সরকারি স্বাস্থ্য বীমা (NEAK), বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা (Private Health Insurance) এবং ভ্রমণ বীমা (Travel Insurance)। প্রতিটি বীমারই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আপনার হাঙ্গেরিতে বসবাসের উদ্দেশ্য, সময়কাল এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে এর মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে হবে। মনে রাখবেন, সঠিক বীমা নির্বাচন শুধু আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয়, আপনার পকেটও বাঁচাবে। ভুল বীমা নিলে ছোট্ট একটা অসুস্থতাও বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা আমি নিজের চোখেই দেখেছি!

NEAK: সরকারি ব্যবস্থার অধীনে সুরক্ষা

NEAK বা জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা তহবিল হলো হাঙ্গেরির সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা। যদি আপনি হাঙ্গেরিতে বৈধভাবে কাজ করেন বা পড়াশোনা করেন এবং আপনার ভিসার ধরন আপনাকে এই সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়, তবে এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কর্মজীবী ​​মানুষদের ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তা সাধারণত এর ব্যবস্থা করেন এবং প্রতি মাসে আপনার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে NEAK কভারেজ প্রদান করতে পারে। এর প্রধান সুবিধা হলো কম খরচ এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের আওতা। আমার এক শিক্ষক একবার বলেছিলেন, “NEAK তোমাকে বেঁচে থাকার মৌলিক নিরাপত্তা দেবে, কিন্তু বিলাসিতা নয়।” অর্থাৎ, জরুরি বা সাধারণ রোগের জন্য এটি দারুণ কাজ করে, কিন্তু বিশেষায়িত বা আধুনিক সেবার জন্য আপনাকে হয়তো অন্য কিছু খুঁজতে হবে।

বেসরকারি বীমা: বাড়তি সুবিধা ও মানসিক শান্তি

বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা হলো সেই বিকল্প, যা আপনাকে সরকারি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বীমা কোম্পানিগুলো প্রবাসীদের জন্য নানা ধরনের প্ল্যান অফার করে। এই বীমাগুলো সাধারণত দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ইংরেজিভাষী ডাক্তার, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং উন্নত বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। যদি আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকে বা আপনি শুধু সেরা মানের চিকিৎসা সেবা চান, তাহলে বেসরকারি বীমা আপনার জন্য আদর্শ। আমার এক পরিচিত বন্ধু, যার একটা ছোটখাটো চর্মরোগ ছিল, পাবলিক সিস্টেমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে অনেক দেরি হচ্ছিল। পরে সে একটা প্রাইভেট বীমা নিয়ে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছিল। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই বীমাগুলো মানসিক শান্তি এনে দেয়, কারণ আপনি জানেন যে যেকোনো সমস্যায় আপনি দ্রুত এবং মানসম্মত সেবা পাবেন। তবে এর খরচটা তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই আপনার বাজেট অনুযায়ী সেরা প্ল্যানটি খুঁজে বের করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্রমণ বীমা: স্বল্পকালীন অবস্থানের জন্য

যদি আপনি স্বল্প সময়ের জন্য হাঙ্গেরিতে আসেন, যেমন পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, তাহলে ভ্রমণ বীমা আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি সাধারণত আপনার দেশ থেকে কেনার ব্যবস্থা থাকে এবং হাঙ্গেরিতে আপনার অবস্থানের সময়কালে যেকোনো জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন কভার করে। ভ্রমণ বীমা সাধারণত জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি মেডিকেল ইভাকুয়েশন এবং কখনও কখনও ভ্রমণ বাতিলের মতো বিষয়গুলো কভার করে। তবে মনে রাখবেন, এটি দীর্ঘমেয়াদী বা পূর্ব-বিদ্যমান রোগের জন্য ডিজাইন করা হয়নি। আমার এক কাজিন একবার হাঙ্গেরিতে এসে সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, আর তার ভ্রমণ বীমার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। তাই, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও, ভালো মানের একটি ভ্রমণ বীমা নেওয়াটা বাধ্যতামূলক না হলেও অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।

জরুরী স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা: কী করবেন যখন প্রয়োজন?

বিদেশ বিভুঁইয়ে জরুরি অবস্থায় কী করতে হবে, এটা জানাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন প্রথম এখানে আসি, সবথেকে বড় ভয়ের বিষয় ছিল, যদি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ি তাহলে কী হবে!

হাঙ্গেরির হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা সিস্টেম বেশ সুসংগঠিত, কিন্তু এখানকার পদ্ধতিগুলো জানতে পারলে আপনি অনেক দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে পারবেন। জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে, যেমন গুরুতর আঘাত, আকস্মিক অসুস্থতা বা জীবন-হুমকির মতো পরিস্থিতিতে আপনাকে সরাসরি জরুরি বিভাগে (Emergency Department) যেতে হবে বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে। মনে রাখবেন, হাঙ্গেরিতে জরুরি সেবার জন্য প্রধান নম্বর হলো 112। এই নম্বরে কল করলে আপনি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্স – সবকিছুর জন্য সাহায্য চাইতে পারবেন। তবে, কিছু ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য সরাসরি জরুরি বিভাগে যাওয়াটা ঠিক নয়, কারণ সেক্ষেত্রে আপনাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে। বরং, আপনার GP-এর সাথে যোগাযোগ করাটাই ভালো।

Advertisement

জরুরী অবস্থার জন্য ফোন নম্বর ও প্রক্রিয়া

আমি আগেই বলেছি, হাঙ্গেরিতে যেকোনো জরুরি সেবার জন্য আপনার মনে রাখা উচিত 112 নম্বরটি। এটা ইউরোপের অনেক দেশের মতোই একটি সর্বজনীন জরুরি নম্বর। আপনি যখন এই নম্বরে কল করবেন, তখন আপনাকে প্রথমে আপনার সমস্যার ধরণ সংক্ষেপে বলতে হবে। ভাষা যদি সমস্যা হয়, তাহলে “Angolul beszélek” (আমি ইংরেজি বলি) বলতে পারেন, যাতে তারা ইংরেজিভাষী অপারেটরের কাছে কলটি ট্রান্সফার করতে পারে। আমার এক প্রতিবেশীর একবার রাতে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, এবং 112 নম্বরে কল করার পর অ্যাম্বুলেন্স বেশ দ্রুতই পৌঁছেছিল। অ্যাম্বুলেন্স সাধারণত আপনাকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবে। যদি আপনার পাবলিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স (NEAK) থাকে, তাহলে বেশিরভাগ খরচ কভার হবে। প্রাইভেট বীমা থাকলে, আপনাকে হয়তো পরে রিফান্ড ক্লেম করতে হবে। তাই, বীমার কাগজপত্র সবসময় হাতের কাছে রাখার চেষ্টা করবেন।

হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা

헝가리 건강보험 및 의료 - Prompt 1: First Steps in Hungarian Healthcare**
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর, বিশেষ করে জরুরি বিভাগে, আপনাকে প্রথমে আপনার পরিচয়পত্র এবং স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে হবে। যদি আপনার TAJ কার্ড থাকে, তাহলে এটিই আপনার প্রধান পরিচয়পত্র। আর যদি প্রাইভেট ইন্স্যুরেন্স থাকে, তাহলে আপনার বীমা কোম্পানির কার্ড এবং পলিসি নম্বর প্রস্তুত রাখবেন। হাঙ্গেরির হাসপাতালগুলোতে সাধারণত আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম আছে, তবে কিছু পুরোনো হাসপাতালে আধুনিকতার অভাব দেখা যেতে পারে। ডাক্তার এবং নার্সরা সাধারণত পেশাদার এবং যত্নশীল। তবে, ইংরেজিভাষী স্টাফ সবসময় নাও থাকতে পারে, বিশেষ করে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলোতে। এক্ষেত্রে, গুগল ট্রান্সলেটর বা কোনো হাঙ্গেরিয়ান বন্ধুর সাহায্য নিতে হতে পারে। আমার এক পরিচিতের একবার এপেনডিক্সের সমস্যা হয়েছিল, সে তখন হাসপাতালে গিয়ে শুধু হাঙ্গেরিয়ান ভাষার মুখোমুখি হয়েছিল। অনেক কষ্টে একজন তরুণ ডাক্তার ইংরেজিতে সাহায্য করেছিলেন। তাই, কিছু হাঙ্গেরিয়ান মৌলিক শব্দ জেনে রাখা ভালো, যেমন ‘আমা সাহায্য করুন’ (Segítsen kérem) বা ‘আমি অসুস্থ’ (Beteg vagyok)।

ওষুধপত্র ও ফার্মেসী: হাঙ্গেরির অভিজ্ঞতা

হাঙ্গেরিতে ফার্মেসী বা gyógyszertár খুঁজে পাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। শহর বা গ্রাম, প্রায় সব জায়গাতেই আপনি ফার্মেসী দেখতে পাবেন। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন সর্দি-কাশির জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিলাম, তখন ফার্মেসীর ভেতরের পরিবেশ দেখে বেশ অবাক হয়েছিলাম। এখানকার ফার্মেসীগুলো বেশ গোছানো এবং আধুনিক, যা আমাদের দেশের অনেক ফার্মেসীর থেকে আলাদা। তবে, ওষুধের নিয়মকানুন এবং প্রেসক্রিপশনের বিষয়গুলো একটু অন্যরকম হতে পারে। হাঙ্গেরিতে অনেক ওষুধই, যা আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, এখানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় না। তাই, ডাক্তারের পরামর্শ এবং প্রেসক্রিপশন থাকাটা খুবই জরুরি। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা কিছু নির্দিষ্ট ক্রনিক রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন ছাড়া উপায় নেই।

প্রেসক্রিপশন ও ডাক্তারের পরামর্শ

ওষুধ কেনার আগে আপনার GP-এর কাছ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন নেওয়া আবশ্যক। একবার প্রেসক্রিপশন পেলে, আপনি যেকোনো ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনতে পারবেন। আপনার TAJ কার্ড থাকলে, প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে কিছু ওষুধের উপর সরকারি ভর্তুকি পেতে পারেন, যা খরচ কমাতে সাহায্য করে। প্রাইভেট বীমা থাকলে, আপনাকে হয়তো প্রথমে পুরো দাম দিয়ে ওষুধ কিনতে হবে এবং পরে বীমা কোম্পানির কাছে রিফান্ডের জন্য ক্লেম করতে হবে। আমার এক বন্ধু একবার মাথাব্যথার জন্য একটা স্ট্রং পেইনকিলার কিনতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রেসক্রিপশন না থাকায় সে ফার্মেসী থেকে সেটা পায়নি। পরে সে GP-এর কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশন নিয়েছিল। তাই, কোনো পরিচিত ওষুধ কেনার আগে বা কোনো শারীরিক সমস্যার জন্য ওষুধ প্রয়োজন হলে, প্রথমে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টস

তবে সব ওষুধের জন্য যে প্রেসক্রিপশন লাগবে, তা কিন্তু নয়। কিছু সাধারণ ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধ, যেমন সাধারণ ব্যথানাশক, ভিটামিন, কাশির সিরাপ বা সর্দি-কাশির প্রাথমিক প্রতিকারের জন্য আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসী থেকে কিনতে পারবেন। ফার্মাসিস্টরা এই ধরনের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এখানকার ফার্মাসিস্টরা বেশ জ্ঞানী এবং তারা রোগীর সমস্যার কথা শুনে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন। তবে, যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতা থাকে বা আপনি অনেকগুলো ওষুধ একসাথে সেবন করেন, তাহলে যেকোনো OTC ওষুধ কেনার আগে একজন ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলাটা বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সাপ্লিমেন্টস, যেমন ভিটামিন সি, মাল্টিভিটামিন বা মিনারেলস সহজেই ফার্মেসীগুলোতে পাওয়া যায়।

প্রবাসে স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু টিপস: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

Advertisement

প্রবাসে থাকা মানে শুধু নতুন দেশ দেখা নয়, নিজেকে মানসিকভাবে আর শারীরিকভাবে সুস্থ রাখাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখন প্রথম হাঙ্গেরিতে আসি, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাবারের ধরণ আর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। আর এসবের প্রভাব সরাসরি আমার স্বাস্থ্যের ওপর পড়েছিল। তাই, হাঙ্গেরিতে সুস্থ থাকার জন্য কিছু বিশেষ টিপস আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই, যা আমাকে সত্যিই অনেক সাহায্য করেছে। এগুলো কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে কিছু ব্যক্তিগত যত্নের বিষয়, যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং হয়তো ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কমাবে। আমার মনে হয়, সুস্থ শরীর আর শান্ত মন থাকলে বিদেশ বিভুঁইয়েও জীবনটা অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে।

সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম

সুষম খাবার গ্রহণ আর নিয়মিত ব্যায়াম যেকোনো পরিস্থিতিতেই সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। হাঙ্গেরিতে এসে দেখেছি, এখানকার খাবার বেশ মুখরোচক হলেও, অনেক সময় আমাদের দেশের খাবারের মতো পুষ্টিকর হয় না, বিশেষ করে যদি আপনি বাইরে বেশি খান। তাই, নিজের হাতে রান্না করার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খান। এখানকার সুপারমার্কেটগুলোতে তাজা ফল আর সবজি সহজেই পাওয়া যায়। আর ব্যায়ামের কথা যদি বলি, শীতকালে বাইরে বের হতে ইচ্ছে না করলেও, ঘরে বসে হালকা ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন। বুদাপেস্টের মতো শহরগুলোতে অনেক জিম এবং পাবলিক পার্ক আছে যেখানে আপনি জগিং করতে পারেন। আমার এক বন্ধু জিমে গিয়ে শুধু শরীরচর্চাই করে না, নতুন বন্ধুও তৈরি করেছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম আমাকে সারাদিন সতেজ থাকতে সাহায্য করে।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও সামাজিকীকরণ

প্রবাসে মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা মানে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা। নতুন পরিবেশে একা বোধ করা, হোমসিকনেস বা পড়াশোনার চাপ—সবকিছুই মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমার ক্ষেত্রে, প্রথম দিকে যখন খুব একা লাগত, তখন আমি বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম, ভিডিও কলে পরিবারের সাথে যুক্ত থাকতাম এবং নতুন নতুন মানুষদের সাথে মিশতে চেষ্টা করতাম। হাঙ্গেরিতে অনেক প্রবাসী গোষ্ঠী বা কমিউনিটি আছে, যেখানে যোগ দিয়ে আপনি একই ভাষার মানুষদের সাথে মিশতে পারবেন। এতে শুধু ভাষার বাধাই দূর হয় না, মানসিক সমর্থনও পাওয়া যায়। এছাড়াও, শখের পেছনে সময় দেওয়া, বই পড়া বা নতুন কোনো দক্ষতা শেখা মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। কখনো কখনো মনে হয়, “ধুর, একা একা আর কত!” কিন্তু তখন মনে করি, সবারই এই অবস্থা হয়, আর এটা কেটে যাবে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত চেকআপ

পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। হাঙ্গেরিতে অনেক সময় পড়াশোনা বা কাজের চাপে আমরা ঘুমের সাথে আপস করি, কিন্তু এটা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুম আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখে। এছাড়াও, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চেকআপ করানোটা খুবই জরুরি, বিশেষ করে যদি আপনার কোনো ক্রনিক রোগ থাকে। এমনকি যদি আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করেন, তবুও বছরে একবার জেনারেল চেকআপ করিয়ে নেওয়া উচিত। এটি আপনাকে সম্ভাব্য কোনো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে সাহায্য করবে, যা পরে বড় ধরনের সমস্যা এড়াতে পারে। আমার GP আমাকে সবসময় বলেন, “আগাম সতর্কতা সবসময়ই সেরা সমাধান।” তাই, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হন এবং ছোটখাটো সমস্যাগুলোকেও অবহেলা করবেন না।

লেখাটি শেষ করছি

বন্ধুরা, প্রবাসে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিন্তা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। হাঙ্গেরিতে আসার পর আমার নিজেরও এমন অনেক প্রশ্ন ছিল, কিন্তু সঠিক তথ্য আর একটু প্রস্তুতির মাধ্যমে এই পথচলাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, আপনার স্বাস্থ্যই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ, তাই এর যত্ন নেওয়া সবার আগে। আশা করি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর এই তথ্যগুলো আপনাদের হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে এবং আপনাদের প্রবাস জীবন আরও স্বচ্ছন্দ করবে। সবসময় সচেতন থাকুন, আর সুস্থ থাকুন!

কিছু দরকারি তথ্য যা আপনার জানা উচিত

১. জরুরি অবস্থার জন্য সবসময় 112 নম্বরটি মনে রাখুন। এটি পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের জন্য একটি সার্বজনীন নম্বর।

২. হাঙ্গেরিতে বসবাসের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিক স্বাস্থ্য বীমা (NEAK, প্রাইভেট বা ট্র্যাভেল ইন্স্যুরেন্স) নির্বাচন করা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

৩. NEAK সিস্টেমে থাকলে একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনার (GP) নির্বাচন করা আপনার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য অপরিহার্য।

৪. যেকোনো নতুন বা শক্তিশালী ওষুধের জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আবশ্যক, তাই অযথা ফার্মেসীতে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না।

৫. ভাষা সমস্যা হলে গুগল ট্রান্সলেটর বা একজন স্থানীয় বন্ধুর সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না, বিশেষ করে হাসপাতাল বা ডাক্তারের চেম্বারে।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ

সংক্ষেপে বলতে গেলে, হাঙ্গেরির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বুঝতে পারার জন্য আপনাকে পাবলিক এবং প্রাইভেট উভয় ব্যবস্থার সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা জানতে হবে। আপনার থাকার ধরন, বাজেট এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বীমা বেছে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি, নিজের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা আপনাকে প্রবাসে সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে। সবসময় সচেতন থাকুন, তথ্য জানুন, এবং যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: হাঙ্গেরিতে বিদেশীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার কী কী বিকল্প আছে এবং কোনটা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ?

উ: আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, হাঙ্গেরিতে যারা নতুন আসেন, তাদের একটা বড় চিন্তা থাকে স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে। এখানে মূলত দুই ধরনের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা আছে – সরকারি বা পাবলিক এবং বেসরকারি বা প্রাইভেট/আন্তর্জাতিক বীমা।প্রথমে আসি সরকারি স্বাস্থ্য বীমা (NEAK এবং TAJ কার্ড) নিয়ে। হাঙ্গেরির ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স ফান্ড (NEAK) এই ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে। আপনি যদি EU, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, লিচেনস্টাইন বা সুইজারল্যান্ডের নাগরিক হন এবং আপনার কাছে ইউরোপীয় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কার্ড (EHIC) থাকে, তাহলে অস্থায়ীভাবে এখানে থাকার সময় আপনি জরুরি চিকিৎসা সেবা পাবেন। কিন্তু আমরা যারা বাংলাদেশ বা অন্যান্য নন-ইইউ দেশ থেকে আসি, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটা একটু আলাদা। এখানে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য আপনার রেসিডেন্স পারমিট এবং হাঙ্গেরির একটি বৈধ ঠিকানা থাকলে আপনি TAJ কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি আপনি Stipendium Hungaricum-এর মতো সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে আসেন, তাহলে TAJ কার্ড পাওয়ার সুযোগ থাকে এবং সেক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে পান। তবে, সাধারণ প্রবাসীদের জন্য TAJ কার্ড পেতে হলে NEAK-এর সাথে একটা চুক্তি করতে হয়, যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। দুঃখের বিষয় হলো, এই সরকারি বীমা পূর্ব-বিদ্যমান বা ক্রনিক কোনো রোগ কভার করে না এবং এর জন্য মাসিক ফি দিতে হয়, যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরির প্রায় ৫০% হতে পারে। এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মী সংকট, পুরনো যন্ত্রপাতি এবং লম্বা লাইনে অপেক্ষা করার মতো কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যা সত্যি বলতে মাঝে মাঝে বেশ হতাশাজনক।এবার আসি বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা প্রসঙ্গে। আমার মনে হয়, প্রবাসীদের জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প। হাঙ্গেরিতে ভিসা আবেদনের জন্য আপনার কমপক্ষে $50,000 কভারেজ সহ একটি স্বাস্থ্য বীমার প্রমাণ দেখাতে হয়, যা চিকিৎসা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ কভার করবে। আন্তর্জাতিক বীমা আপনাকে উন্নত বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা পেতে সাহায্য করে, যেখানে আধুনিক সুবিধা, ইংরেজিভাষী ডাক্তার এবং অপেক্ষার সময়ও অনেক কম। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, অনেকেই সরকারি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে বেসরকারি বীমা বেছে নেন, বিশেষ করে যদি আপনার জরুরি বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ দরকার হয়। Cigna, AXA, Allianz-এর মতো অনেক আন্তর্জাতিক বীমা প্রদানকারী সংস্থা আছে, যারা প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কভারেজ অফার করে। এমনকি যদি আপনার সরকারি বীমা পাওয়ার সুযোগও থাকে, তবুও একটি ভালো বেসরকারি বীমা অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য খুবই জরুরি, বিশেষ করে যদি আপনি বুদাপেস্টের বাইরে গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, যেখানে চিকিৎসা সুবিধার অভাব থাকতে পারে। বেসরকারি বীমা অনেক সময় এমন ঔষধ বা সরঞ্জামও কভার করে, যা সরকারি সিস্টেমে নাও পাওয়া যেতে পারে।আমার পরামর্শ হলো, হাঙ্গেরিতে আসার আগে থেকেই একটি ভালো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে আসা। এটি শুধু আপনার ভিসার প্রয়োজনই মেটাবে না, বরং মানসিক শান্তিও দেবে, যা বিদেশে সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য।

প্র: হাঙ্গেরিতে বিদেশীরা TAJ কার্ড (সরকারি স্বাস্থ্য বীমা কার্ড) কীভাবে পেতে পারে এবং এর সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী?

উ: হাঙ্গেরিতে TAJ কার্ড পাওয়াটা একটু ঝামেলার মনে হতে পারে, বিশেষ করে আমাদের মতো নন-ইইউ নাগরিকদের জন্য। আমি যখন প্রথম এখানে আসি, এই TAJ কার্ড নিয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করতে হয়েছিল। আসলে TAJ কার্ড হলো হাঙ্গেরির সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার একটি অংশ, যা আপনাকে সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিনামূল্যে বা কম খরচে চিকিৎসা সেবা পেতে সাহায্য করে।TAJ কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া:
প্রথমত, আপনার হাঙ্গেরিতে একটি বৈধ রেসিডেন্স পারমিট এবং একটি হাঙ্গেরিয়ান ঠিকানা থাকতে হবে। এই দুটো ছাড়া TAJ কার্ডের জন্য আবেদন করা প্রায় অসম্ভব।
কারা পেতে পারেন:
যদি আপনি হাঙ্গেরিয়ান সরকার প্রদত্ত কোনো স্কলারশিপ (যেমন Stipendium Hungaricum) নিয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে আসেন, তাহলে আপনি বিনামূল্যে TAJ কার্ড পাওয়ার যোগ্য। সেক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে এই প্রক্রিয়াতে সহায়তা করতে পারে।
যারা হাঙ্গেরিতে বৈধভাবে কাজ করছেন, তাদের নিয়োগকর্তা সামাজিক নিরাপত্তা অবদানে অংশ নেওয়ায় তারাও TAJ কার্ডের জন্য যোগ্য হতে পারেন।
অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী বাসিন্দাদের জন্য, NEAK (National Health Insurance Fund) এর সাথে একটি চুক্তি করতে হয়।আবেদনের ধাপগুলো:
1.
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা: NEAK-এর সাথে চুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট হাসপাতালে আপনাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এই পরীক্ষার খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে। এই পরীক্ষায় একজন ডাক্তার আপনার স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করবেন এবং কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে বীমা কভারেজ দেবে না, তার একটি তালিকা তৈরি করবেন।
2.
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আবেদন করার সময় আপনার বৈধ পাসপোর্ট, রেসিডেন্স পারমিট কার্ড (উভয় দিক), ঠিকানা প্রমাণ (অ্যাড্রেস কার্ড), এবং পূরণ করা স্বাস্থ্য মূল্যায়ন প্রশ্নাবলী লাগবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছাত্রত্বের সনদও প্রয়োজন হতে পারে।
3.
আবেদন জমা দেওয়া: আপনার বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে স্থানীয় সরকারি অফিসে (Government Office) এই চুক্তি শুরু করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
4.
ফি প্রদান: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মাসিক প্রিমিয়াম হাঙ্গেরির সর্বনিম্ন মজুরির প্রায় ৫০% (প্রায় EUR 360), আর ১৮ বছরের কম বয়সী বা ফুল-টাইম শিক্ষার্থীদের জন্য এটি প্রায় EUR 215 হতে পারে।TAJ কার্ডের সীমাবদ্ধতা:
প্রাক-বিদ্যমান রোগ: আমার এক বন্ধুকে দেখেছি, TAJ কার্ড পাওয়ার সময় তার পুরোনো একটি রোগের জন্য কভারেজ পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সরকারি বীমা সাধারণত প্রাক-বিদ্যমান বা ক্রনিক কোনো রোগ কভার করে না।
দীর্ঘ অপেক্ষার সময়: সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার দেখাতে বা বিশেষায়িত চিকিৎসা পেতে অনেক সময় লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রবাসে বেশ বিরক্তির কারণ হতে পারে।
ইংরেজিভাষী ডাক্তার: সব সরকারি ক্লিনিকে ইংরেজিভাষী ডাক্তার পাওয়া কঠিন হতে পারে, যা যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
জটিল প্রক্রিয়া: আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং একাধিকবার অফিসে যাওয়া লাগতে পারে।এই কারণে, অনেক প্রবাসী TAJ কার্ডের পাশাপাশি একটি বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক বীমা রাখার কথা ভাবেন, যাতে দ্রুত এবং উন্নত সেবা পেতে পারেন।

প্র: হাঙ্গেরিতে পাবলিক হেলথকেয়ার সিস্টেমের সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী?

উ: হাঙ্গেরিতে বসবাস করাটা সত্যিই অসাধারণ, কিন্তু এখানকার পাবলিক হেলথকেয়ার সিস্টেম নিয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে যা সবার সাথে শেয়ার করা জরুরি। আমরা অনেকেই মনে করি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা মানেই সব সমস্যার সমাধান, কিন্তু হাঙ্গেরির প্রেক্ষাপটে এটা সবসময় সত্যি হয় না।আমার চোখে এখানকার পাবলিক হেলথকেয়ার সিস্টেমের কিছু মূল সীমাবদ্ধতা হলো:দীর্ঘ অপেক্ষার সময় (Long Wait Times): এটা একটা বিরাট সমস্যা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একবার একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আমাকে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। গুরুতর না হলে অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার জন্যও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা জরুরি অবস্থায় সত্যিই কষ্টকর। বেসরকারি ক্লিনিকে যেখানে একদিনেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়, সেখানে সরকারি ব্যবস্থায় মাসের পর মাস অপেক্ষা করা অস্বাভাবিক নয়।
আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং অবকাঠামো: দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অনেক সরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। পুরনো যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামোর কারণে অনেক সময় উন্নত মানের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বড় শহর বুদাপেস্টের বাইরে গ্রামীণ এলাকায় এই সমস্যা আরও বেশি প্রকট।
কর্মী সংকট এবং ইংরেজিভাষী ডাক্তার: হাঙ্গেরি থেকে অনেক যোগ্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী উন্নত সুযোগ-সুবিধার জন্য পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে চলে যান। এর ফলে এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মী সংকট দেখা যায়। আর যারা নতুন প্রবাসি, তাদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সব জায়গায় ইংরেজিভাষী ডাক্তার বা নার্স না পাওয়া। আমার হাঙ্গেরিয়ান ভাষা ততটা ভালো না হওয়ায়, প্রথমদিকে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করতে বেশ অসুবিধা হতো। জরুরি অবস্থায় এটা একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সীমিত কভারেজ (TAJ কার্ডের ক্ষেত্রে): যেমনটা আমি আগেই বলেছি, TAJ কার্ড কিছু ক্ষেত্রে সীমিত কভারেজ দেয়। প্রাক-বিদ্যমান বা ক্রনিক কোনো রোগের জন্য এটি কভারেজ নাও দিতে পারে, অথবা সেক্ষেত্রে বাড়তি খরচ লাগতে পারে। এছাড়া, কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা বা ঔষধের খরচও আপনাকে নিজে বহন করতে হতে পারে, যা সরকারি বীমার আওতায় পড়ে না।
ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অতিরিক্ত খরচ: যদিও কিছু প্রেসক্রিপশনের ঔষধ TAJ কার্ডের মাধ্যমে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়, তবে সব ঔষধ বা বিশেষায়িত ঔষধের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নাও থাকতে পারে। অনেক সময় এমন হয় যে ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে সেবা দিলেও, কিছু পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার করেন, যেখানে আপনাকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়।এই সীমাবদ্ধতাগুলো মাথায় রেখেই আমি সবসময় প্রবাসীদের একটি ভালো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা রাখার পরামর্শ দেই। এতে আপনি দ্রুত, মানসম্মত এবং ইংরেজিভাষী ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পেতে পারবেন, যা বিদেশে আপনার সুস্থ জীবনযাত্রার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

📚 তথ্যসূত্র